লন্ডনে কর্মহীন প্রায় ৪০ শতাংশ বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি, উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কমিউনিটির মধ্যে কর্মহীনতার হার অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, লন্ডনে কর্মক্ষম বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিকদের প্রায় ৪০ শতাংশ বর্তমানে কর্মহীন বা অর্থনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয়।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (Office for National Statistics – ONS)–এর তথ্যের ভিত্তিতে করা এই বিশ্লেষণে বলা হয়, বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কমিউনিটি লন্ডনের সবচেয়ে বেশি কর্মহীন জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে। এই হার শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, “কর্মহীন” বলতে শুধু চাকরি না থাকা নয়; বরং যারা কাজ করছেন না, চাকরি খুঁজছেন না বা বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক কারণে শ্রমবাজারের বাইরে রয়েছেন—তাদেরও এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এটি পুরো কমিউনিটির সার্বিক চিত্র নয়, বরং কর্মক্ষম বয়সী জনগোষ্ঠীর একটি অংশের বাস্তবতা তুলে ধরে।
কর্মসংস্থানে এই পিছিয়ে পড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভাষাগত দুর্বলতা, পর্যাপ্ত দক্ষতার অভাব, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, পারিবারিক দায়িত্ব, দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য এবং লন্ডনের শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি। বিশেষ করে হসপিটালিটি ও খুচরা খাতে চাকরি কমে যাওয়ার প্রভাবও পড়েছে এসব কমিউনিটিতে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিকে স্থায়ী বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। লক্ষ্যভিত্তিক প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কমিউনিটি পর্যায়ে কর্মসংস্থান সহায়তা বাড়ানো গেলে এই চিত্র পরিবর্তন করা সম্ভব।
এদিকে পরিসংখ্যানটি প্রকাশের পর প্রবাসী বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কমিউনিটির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তরুণ প্রজন্মকে দক্ষতা ও শিক্ষার দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে না পারলে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান সংকট আরও গভীর হতে পারে।
সব মিলিয়ে, লন্ডনে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কমিউনিটির উচ্চ কর্মহীনতার হার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে, যা সমাধানে সরকার ও কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।