ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের মধ্যে বাড়ছে বিচ্ছেদের হার, উদ্বিগ্ন কমিউনিটি
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিবাহবিচ্ছেদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামাজিক গবেষণা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আগের তুলনায় এখন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি দম্পতিরা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেয়ে বিচ্ছেদকে তুলনামূলকভাবে সহজ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের শিক্ষার হার বৃদ্ধি, আর্থিক স্বাধীনতা, পারিবারিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং যুক্তরাজ্যের নো-ফল্ট ডিভোর্স আইন এই প্রবণতার অন্যতম কারণ। নতুন এই আইনের ফলে স্বামী বা স্ত্রীকে দোষারোপ না করেই আইনি প্রক্রিয়ায় বিচ্ছেদ সম্ভব হওয়ায় অনেকেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটিতে বিচ্ছেদের হার প্রায় ৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের দশকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কমিউনিটি নেতারা বলছেন, পারিবারিক মূল্যবোধে পরিবর্তন, কর্মজীবনের চাপ, মানসিক দূরত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবও সম্পর্ক ভাঙনের পেছনে ভূমিকা রাখছে। অনেক ক্ষেত্রে যৌথ পরিবার ভেঙে নিউক্লিয়ার পরিবারে রূপ নেওয়ায় পারিবারিক সহায়তার অভাবও দাম্পত্য সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে।
তবে সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই পরিবর্তনকে পুরোপুরি নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাদের মতে, অসুখী বা সহিংস সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ বাড়ায় ব্যক্তিগত মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রয়োজন সচেতনতা, পারিবারিক কাউন্সেলিং ও কমিউনিটি পর্যায়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির অভিভাবক ও ধর্মীয় নেতারা তরুণ প্রজন্মকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধের ওপর জোর দিয়ে সম্পর্ক গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।