চিকিৎসা ভাতা ৩৫০০ থেকে ৫০০০ টাকায় বাড়ানোর সুপারিশের প্রস্তুতি, ৪০ বছরভেদে দুই হার প্রস্তাব
সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করতে যাচ্ছে জাতীয় পে কমিশন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, নবম পে স্কেলে চিকিৎসা ভাতা বর্তমান ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে এবং এ সংক্রান্ত সুপারিশ আগামী বুধবার ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জমা দেওয়া হবে।
পে কমিশনের একটি সূত্র জানায়, বয়সভিত্তিক দুই ক্যাটাগরিতে চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণের সুপারিশ করা হচ্ছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে ৪০ বছর বা তার কম বয়সী চাকরিজীবীদের জন্য মাসিক ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে।
পে কমিশনের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বয়স্ক চাকরিজীবীদের ওষুধসহ চিকিৎসা ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তাদের ভাতা কিছুটা বেশি রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অবসরের পরও একজন সরকারি চাকরিজীবী মাসিক ৫ হাজার টাকা হারে চিকিৎসা ভাতা পাবেন, এমন সুপারিশ থাকছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং নবম গ্রেডে একজন বিসিএস কর্মকর্তার মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ পর্যায়ে সচিবদের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে ৮৬ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেটে অর্থের সংস্থান রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ ১ লাখ ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি। অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, মূল বেতন বা ভাতার যেকোনো একটি জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরে এই বরাদ্দ রাখা হয়েছে, বাকি অংশ পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
তবে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, সুদের উচ্চ ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে পে কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে এসেছে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য হিসেবে বলা হয়েছে, পে কমিশন শক্ত প্রস্তাব দিচ্ছে, কিন্তু বাস্তবায়ন একটি ভিন্ন এবং কঠিন বিষয়।