ইরান ‘ন্যাশনাল ইন্টারনেট’ জোরদার করছে, বৈশ্বিক ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার সীমিত করার আশঙ্কা
ইরান সরকার দেশটিতে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ আরও সীমিত করার পথে এগোচ্ছে বলে ডিজিটাল অধিকারকর্মী ও ইন্টারনেট সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে সাধারণ নাগরিকদের জন্য আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটের বদলে সরকার-নিয়ন্ত্রিত দেশীয় নেটওয়ার্কভিত্তিক সেবা বাড়ানো হতে পারে, যেখানে নির্দিষ্ট অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সীমিত ও ফিল্টার করা বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত কাঠামোয় দেশীয় সার্চ ইঞ্জিন, মেসেজিং অ্যাপ, ন্যাভিগেশন সেবা এবং দেশীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মসহ একটি সমান্তরাল ডিজিটাল অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকেরা।
এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে ইরানে বড় পরিসরে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত বা বন্ধ থাকার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ইন্টারনেট বন্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ফলে তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহের কাজও কঠিন হয়ে পড়ে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি ২০২৬-এ শুরু হওয়া কঠোর ইন্টারনেট বিধিনিষেধ অন্তত নওরোজ (২০ মার্চ) পর্যন্ত চলতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দেশটির এক সরকারি বক্তব্যের সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশটির অর্থনীতি, প্রযুক্তি খাত এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।