আমি যখন চলে যাব: মো. রহমত আলী
নিয়তির অমোঘ বিধানে আমি একদিন চলে যাব আর সে যাওয়া হবে শেষ যাওয়া যখন আর কোনদিন ফিরবো না।
আমি যখন চলে যাব তখন আমার সব কিছুই পড়ে রবে এ ধরায় যেগুলি একসময় ব্যবহার করতাম পরম মমতায়।
আমি যখন চলে যাব তখন আমার কলমটি কোথায় পড়ে থাকবে সেটা আমি আর বলতে পরবো না।
আমি যখন চলে যাব তখন আমার ব্যবহৃত চেয়ার টেবিলের খবর আর কেউ হয়তো রাখবে না।
আমি যখন চলে যাবো তখন আমার কম্পিউটার আর লেপটপ হয়তো আর কেউ চালাবে না।
আমি যখন চলে যাব তখন আমার কম্পিউটারের ফাইলগুলি আর হয়তো কেউ খুলে দেখবে না।
আমি যখন চলে যাব তখন আমার লেখা পন্ডুলিপি আর হয়তো কেউ খুঁজবে না।
আমি যখন চলে যাব তখন আমার লেখা বইগুলি আর হয়তো কেউ সেল্ফে তুলে রাখবে না।
আমি যখন চলে যাব তখন ড্রয়ারের চাবির রিং হয়তো আর কারো পকেটে স্থান পাবে না।
আমি যখন চলে যাব তখন আমার লাইটার তালা হয়তো আর কেউ খুলবে না।
আমি যখন চলে যাবো তখন আমার ফেসবুকে আর ওয়াটসঅ্যাপে আর কিছু আপলোড হবে না।
আমি যখন চলে যাব তখন আমার পাওয়ারযুক্ত চশমাটি আর হয়তো কারো চোখের দৃষ্টি বাড়াবে না।
আমি যখন চলে যাবো তখন আমার কালো রংঙের ব্যাগটি আর হয়তো কারো কাঁধে ঝুলবে না।
আমি যখন থাকবো না তখন আমার সাথে থাকা মোবাইল ফোনটি আর কখনো বাজবে না।
আমি যখন থাকবো না তখন আমাকে প্রদত্ত ক্রেস্ট ও মেডেলগুলি কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
আমি যখন থাকবো না তখন আমার ছবিগুলি দেখে অনেকেই বলবে-আহা বেচারা চলে গেল!
আমার মৃত্যুর পর হয়তো কখনো শোক সভার আয়োজন করা হতে পারে এতে আমার ব্যাপারে স্মৃতিচারণ হবে।
আমার জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজনও হতে পারে আমার পরিবারের পক্ষ থেকে তখন কুলখানির আয়োজনও করা হাতে পারে।
আমাকে যখন সমাহিত করা হবে তখন আমার কবরের পাশে গিয়ে আবার অনেকে জিয়ারত করে চলে আসবে নীরবে-নিভৃতে।
এভাবে অনেকদিন পর আমার কবরও একদিন বিলীন হয়ে যাবে অন্য কবরবাসির মত আর তখন আমার অস্তিত্ব কেউ খুজে পাবে না।
কিন্তু তখন আমার একমাত্র ভরসা এই বই আর কবিতাগুলি যা আমার স্মৃতি হয়ে থাকবে যতদিন পাঠক হাতে তুলে নিবে।