পবিত্র কোরআনে শপথ নিয়ে নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি
নিউইয়র্ক সিটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় যুক্ত হলো পবিত্র কোরআন হাতে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। নতুন বছরের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জোহরান মামদানি। মধ্যরাতে ম্যানহাটনের একটি পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে ব্যতিক্রমধর্মী এই শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
মাত্র ৩৪ বছর বয়সে দায়িত্ব গ্রহণ করে মামদানি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম এবং সাম্প্রতিক সময়ের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে নজির গড়লেন। শপথ গ্রহণকালে তিনি পবিত্র কোরআনের ওপর হাত রেখে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এই আয়োজনকে শহরের বহুত্ববাদী মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শপথগ্রহণের স্থান হিসেবে মামদানি বেছে নেন ১৯৪৫ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘ওল্ড সিটি হল সাবওয়ে স্টেশন’। স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিখ্যাত এই স্থানটি নিউইয়র্কের শ্রমজীবী মানুষের ইতিহাস ও সংগ্রামের প্রতীক—এমনটাই জানিয়েছে তার ট্রানজিশন টিম।
মধ্যরাতের শপথ অনুষ্ঠানের পর একই দিনে দুপুর ১টায় সিটি হলের সিঁড়িতে আরেকটি বড় জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তাকে পুনরায় শপথ পড়াবেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ। পরে ব্রডওয়ের ‘ক্যানিয়ন অব হিরোস’-এ গণসংবর্ধনা ও ব্লক পার্টির আয়োজন করা হবে।
উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় জন্ম নেওয়া জোহরান মামদানি বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির সন্তান। ১৯৯৯ সালে সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হন তিনি এবং ২০১৮ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন।
নিজেকে ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানি নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তার ঘোষিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে বাস সার্ভিস চালু, প্রায় ১০ লাখ ভাড়াটিয়া পরিবারের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত রাখা, সবার জন্য চাইল্ডকেয়ার নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষামূলকভাবে নগর-পরিচালিত গ্রোসারি স্টোর চালু করা।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই তাকে একাধিক জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, তুষারপাত নিয়ন্ত্রণ, তীব্র আবাসন সংকট এবং সাবওয়ে ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান করাই হবে তার প্রশাসনের বড় পরীক্ষা।
তার প্রগতিশীল নীতিগুলো কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হয়, তা এখন নিউইয়র্ক ছাড়িয়ে গোটা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে। রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অবস্থানে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নেতাদের সঙ্গে মতপার্থক্য সত্ত্বেও শহরের সার্বিক উন্নয়নে তিনি কতটা সমন্বয় করতে পারেন, সেটিই এখন সবার নজরে।