মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হামলাটি চালিয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, সক্রিয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। হামলায় মার্কিন বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হননি এবং তারা নিরাপদে রয়েছেন।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, হামলার সময় মার্কিন সেনারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ছিলেন। প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রভাব পড়ে। অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮২ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দিনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় এবং দুই দেশের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগের খবর প্রকাশিত হওয়ায় বাজারে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছিল।
এর মধ্যেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
ট্রাম্পের দাবি, তেহরানের সঙ্গে ইতিবাচক ও গভীর আলোচনা চলছে। তবে ইরান এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী কয়েকটি দেশের মাধ্যমে বার্তা আদান প্রদান হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান সংকটের নতুন সামরিক অধ্যায় শুরু হয়। জুনে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং পরবর্তী উত্তেজনার কারণে জুলাইয়ের শুরুতে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে।
এরপর ১৩ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় বিমান হামলা ও অন্যান্য সামরিক অভিযান শুরু করে। টানা ১৩ রাত অভিযান চালানোর পর গত শুক্রবার থেকে হামলা স্থগিত রাখা হয়। সোমবারও টানা চতুর্থ দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধেই সামরিক অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।