বিধ্বংসী সংঘাতের ক্ষত কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে ইরানের রাজধানী তেহরান
সাম্প্রতিক ভয়াবহ সংঘাতের ধ্বংসলীলা পেছনে ফেলে নবউদ্যমে জেগে উঠছে ইরানের রাজধানী তেহরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ মেরামতের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৪ মে ২০২৬ প্রকাশিত এই সংবাদে বলা হয়েছে যে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আক্রান্ত জনপদগুলোতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তেহরানের ডেপুটি গভর্নর ইয়েদ কামালউদ্দিন মিরজাফারিয়ান জানিয়েছেন যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের ফলে তেহরান প্রদেশের অন্তত ৬০ হাজারের বেশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইরান এই কঠিন সময়কে তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছে যে গত কয়েক মাসে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সংঘাতের কারণে দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতু বন্দর রেল নেটওয়ার্ক বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানি শোধনাগারের মতো কৌশলগত অবকাঠামোসমূহ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল যা পুনর্গঠনে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ইরান কর্তৃপক্ষ এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতিকে এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে আধুনিক কারিগরি সহায়তায় দ্রুতগতিতে রাস্তাঘাট ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো সচল করছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি দ্রুত সংস্কার করার ফলে নগরীর বেশিরভাগ অংশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের এই দ্রুত পুনর্গঠন সক্ষমতা এবং বিপর্যস্ত পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার দৃঢ় মনোবল বিশেষ ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবশিষ্ট অংশগুলোও অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সংস্কার করে তেহরানকে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।