ইরান সংকটে বিপর্যয়ের মুখে ওয়াশিংটন ও বৈশ্বিক প্রভাব হারানোর প্রবল শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী চিন্তাবিদ ও কৌশলগত বিশ্লেষক রবার্ট কাগান এক চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দি আটলান্টিকে প্রকাশিত এক বিশেষ নিবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন যে ইরানের সাথে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে যা দীর্ঘমেয়াদে ওয়াশিংটনকে পূর্ণ পরাজয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে। কাগান মনে করেন এই সংঘাতের ফলে উদ্ভূত কৌশলগত শূন্যতা এবং সামরিক সীমাবদ্ধতা আমেরিকার বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্বকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৪ মে ২০২৬ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মহলে এই বিষয়টি এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক প্রভাব বিস্তারের পক্ষে সোচ্চার থাকা এই রক্ষণশীল তাত্ত্বিক মনে করেন বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সামরিক সংকটের চেয়েও জটিল ও ভয়াবহ। রবার্ট কাগানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার ভারসাম্যকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে এবং এটি তেহরানকে আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে এক বিশ্বজনীন প্রভাবশালী শক্তিতে রূপান্তরিত করেছে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন যে এই যুদ্ধ আমেরিকার সক্ষমতাকে প্রদর্শনের পরিবর্তে বরং বিশ্বদরবারে একে একটি অবিশ্বস্ত ও লক্ষ্যহীন রাষ্ট্র হিসেবে উন্মোচিত করেছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মার্কিন মিত্র দেশগুলো এখন নিজেদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবছে যা আমেরিকার দরকষাকষির ক্ষমতাকে সংকুচিত করছে।
রবার্ট কাগান তার গভীর পর্যবেক্ষণে আরও জানিয়েছেন যে বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং এটি ইসরাইলের জন্যও অত্যন্ত নেতিবাচক ও বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে আনতে পারে। পার্ল হারবার বা ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে এবারের পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো আমেরিকার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে বিকল্প পথগুলো এখন অত্যন্ত সীমিত এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ রক্ষা বা ইরানকে দমানোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন যে বড় ধরনের কৌশলগত ভুল করছে তা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা প্রভাবের অবসান ঘটাতে পারে। প্রশাসনের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের এই অদূরদর্শিতা ভবিষ্যতে বিশ্ব রাজনীতিতে ইরান ও তার মিত্রদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে।