বিশ্বের সবচেয়ে উত্তপ্ত ৫০ শহরের সবকটিই ভারতে, বাড়ছে জলবায়ু সংকটের শঙ্কা
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবার নতুন এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা সামনে এনেছে। বিশ্বের সবচেয়ে উত্তপ্ত ৫০টি শহরের সবকটিই একই দিনে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করেছে, যা পরিবেশ ও আবহাওয়া বিশ্লেষকদের কাছে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার ১২ মে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা একিউআইয়ের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়ে। গত ২৭ এপ্রিল বিশ্বের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার তালিকায় শীর্ষ ৫০টি শহরের সবগুলোই ছিল ভারতের।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বাতাসের গতি এবং আর্দ্রতার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ওইদিন তালিকাভুক্ত শহরগুলোর গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৪৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তালিকার শীর্ষে ছিল উত্তরপ্রদেশের বান্দা শহর। সেখানে তাপমাত্রা পৌঁছায় ৪৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ওইদিন বিশ্বের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। রাতের সময়ও শহরটির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল, যা জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়া ইতিহাসবিদ মক্সিমিলিয়ানো হেরেরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতে যে তাপপ্রবাহ দেখা গেছে, তা ইতিহাসের অন্যতম কঠোর তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তার মতে, সাধারণত এপ্রিল বছরের সবচেয়ে উষ্ণ সময় না হলেও এবার বহু পুরোনো তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে ভারতের কিছু অঞ্চলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে কৃষি উৎপাদন, খাদ্য সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবার ওপরও বাড়ছে চাপ। একই সঙ্গে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা এবং জ্বালানি সরবরাহ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইন্ডিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি এল নিনো প্রভাবের কারণে আগামী মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে, যা কৃষি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে ভারতের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে অনুভূত তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে।