পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর থেকেই তাকে মুখ্যমন্ত্রীর সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
শুক্রবার ৯ মে কলকাতার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীকে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
বৈঠক শেষে অমিত শাহ বলেন, বিধায়কদলের বৈঠকে আটটি প্রস্তাব জমা পড়েছিল এবং প্রতিটি প্রস্তাবেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দ্বিতীয় কোনো নাম প্রস্তাব না আসায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকেই দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে।
শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানাবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এবারের নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে এই জয়কে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির উত্থান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি এর আগে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় আসেন। এবারের নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্রেই জয় পেয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করেন।
বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রে তার বড় ব্যবধানে জয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর ফলে দলীয় নেতৃত্বের আস্থাও আরও দৃঢ় হয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দলীয় নেতাদের দাবি, নতুন সরকার পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে।