অবরোধের মধ্যেও কয়েক মাস টিকে থাকার সক্ষমতা রয়েছে ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের নৌঅবরোধ এবং সামরিক চাপ সত্ত্বেও ইরান আরও কয়েক মাস পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হতে পারে বলে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং তেহরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ৮ মে মার্কিন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া গোয়েন্দা বিশ্লেষণে ধারণা দেওয়া হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান অন্তত তিন থেকে চার মাস অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ সহ্য করতে পারবে। এরপর দেশটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে।
প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বড় অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে। গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ইরানের প্রায় ৭৫ শতাংশ মোবাইল লঞ্চার এবং প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র এখনো ব্যবহারের উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডারের অধিকাংশ পুনরায় সচল করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মেরামতের কাজও এগিয়েছে। এমনকি সংঘাত শুরুর আগে প্রস্তুত থাকা নতুন কিছু ক্ষেপণাস্ত্রও এখন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির হাতে আগের তুলনায় খুব সীমিত সামরিক সক্ষমতা অবশিষ্ট রয়েছে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র মনে করছে, তেহরানকে ঘিরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের পরও ইরানের নেতৃত্ব আগের চেয়ে আরও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।