ইরানের জন্য ছয় স্থলপথ খুলল পাকিস্তান, বাণিজ্যে নতুন করিডোর
মার্কিন নৌ-অবরোধে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার মধ্যে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সচল রাখতে পাকিস্তান ছয়টি স্থল ট্রানজিট রুট চালু করেছে, যা আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করে তা তাৎক্ষণিক কার্যকর করে। শুক্রবার ২৫ এপ্রিল ঘোষিত এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তৃতীয় দেশের পণ্য পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সড়কপথে ইরানে পরিবহনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এই উদ্যোগের ফলে করাচি বন্দরে আটকে থাকা তিন হাজারের বেশি কন্টেইনার ধীরে ধীরে গন্তব্যে পাঠানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সমুদ্রপথে অবরোধ এবং যুদ্ধকালীন বীমা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন কঠিন হয়ে পড়েছিল।
ঘোষিত রুটগুলো করাচি, পোর্ট কাসিম ও গোয়াদর বন্দরকে ইরানের গাব্দ ও তাফতান সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর মধ্যে গোয়াদর থেকে গাব্দ রুটটি সবচেয়ে কম সময়সাপেক্ষ, যেখানে সীমান্তে পৌঁছাতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাগতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই ব্যবস্থায় পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
ঘোষণার সময়টি কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির ইসলামাবাদ সফরের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত আসে, যেখানে তিনি পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এ সুবিধার আওতায় ভারতীয় পণ্য পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই করিডোর আফগানিস্তান নির্ভরতা কমিয়ে পাকিস্তানকে পশ্চিমমুখী বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। তবে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।