ইসরাইলগামী সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করল বেলজিয়াম, শুরু তদন্ত
যুক্তরাজ্য থেকে ইসরাইলের উদ্দেশে পাঠানো সামরিক সরঞ্জামের দুটি চালান জব্দ করেছে বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ, যা নিয়ে ইতোমধ্যে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে।
বুধবার ১৫ এপ্রিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বেলজিয়ামের আকাশসীমা ব্যবহার বা যাত্রাবিরতির ক্ষেত্রে ইসরাইলগামী সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত ২৩ মার্চ যুক্তরাজ্য থেকে ছেড়ে আসা দুটি চালান ২৪ মার্চ বেলজিয়ামের লিঁয়জ বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষা করে দেখা যায়, চালানগুলোতে ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং সামরিক বিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ ছিল, যা যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও দক্ষিণ বেলজিয়ামের ওয়্যালুন আঞ্চলিক সরকার একটি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছে, যার যুক্তরাজ্যে উৎপাদন সুবিধা রয়েছে এবং ইসরাইলি পাইলটদের প্রশিক্ষণ বিমানের জন্য যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, একই ধরনের সামরিক সরঞ্জাম অতীতেও যুক্তরাজ্য থেকে বেলজিয়াম হয়ে ইসরাইলে পাঠানো হয়েছে এবং অন্তত ১৭টি চালান এ রুট ব্যবহার করেছে। এসব পণ্য বিমান যন্ত্রাংশ হিসেবে রপ্তানি করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বেলজিয়াম হয়ে ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের তথ্য নেই।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গাজা পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় যুক্তরাজ্য সরকার ইসরাইলের কাছে অস্ত্র রপ্তানির কিছু লাইসেন্স স্থগিত করে। একই সঙ্গে লাইসেন্স ছাড়া সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব পণ্যের জন্য ট্রানজিট লাইসেন্স প্রয়োজন ছিল, যা নেওয়া হয়নি। ফলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।