আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল আলোচিত শান্তি আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি জানিয়েছেন, আলোচনায় সমঝোতা না হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও ব্যাপক সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। শুক্রবার ১০ এপ্রিল নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। রণতরীগুলোকে উন্নত অস্ত্র ও পর্যাপ্ত গোলাবারুদ দিয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে এবং এটি একটি নতুন কৌশলগত বিন্যাসের অংশ।
তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এখন সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সেই শক্তি ব্যবহার করতে প্রস্তুত রয়েছে।
একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের অবস্থানকে দুর্বল উল্লেখ করে বলেন, তারা আন্তর্জাতিক নৌপথ ব্যবহার করে কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি আলোচনার সুযোগ বজায় রাখতে ইরানের কিছু নেতাকে এখনো টার্গেট না করার কথাও ইঙ্গিত দেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থাহীনতার কথা তুলে ধরেছেন। ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অতীতে আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অধিকার স্বীকার করে বাস্তবসম্মত চুক্তিতে আগ্রহ দেখায়, তাহলে তেহরান আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
এদিকে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে পাকিস্তানে অবস্থান করছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদের পথে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হলেও দুই পক্ষের পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং কঠোর অবস্থান সমঝোতার পথকে এখনো অনিশ্চিত করে রেখেছে।