আহমেদ উস সামাদ চৌধুরীর জীবন ও নেতৃত্ব নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ
ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও চ্যানেল এস এর চেয়ারম্যান আহমেদ উস সামাদ চৌধুরীর জীবনভিত্তিক একটি গ্রন্থ যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত হয়েছে।
লন্ডন থেকে জানা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এ ম্যান অফ অ্যাকশন, এ লাইফ অফ লিডারশিপ, সার্ভিস অ্যান্ড কমিউনিটি শীর্ষক বইটি বর্তমানে অ্যামাজনের যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাইটে পাওয়া যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল বিষয়টি প্রকাশ্যে জানানো হয়।
গ্রন্থটি যৌথভাবে লিখেছেন আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী এবং তাঁর পুত্র তাহমিদ সামাদ চৌধুরী। খুব শিগগিরই অভ্র প্রকাশন থেকে বইটির বাংলা অনুবাদ প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।
বইটিতে ব্রিটেনে তার আগমন, দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিষ্ঠা, নেতৃত্ব, গণমাধ্যম নির্মাণ, প্রবাসী সমাজের আত্মপরিচয় গঠনে ভূমিকা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের বিস্তৃত বিবরণ উঠে এসেছে। শৈশব থেকে অভিবাসী জীবনের নানা অধ্যায়, ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির বিকাশে তার অবদান এবং জনসেবামূলক কাজও এতে স্থান পেয়েছে।
গণমাধ্যমে তার অবদানের পাশাপাশি আতিথেয়তা, শিল্প, উন্নয়ন ও উৎপাদন খাতে সাফল্যের কথাও বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দুর্যোগ ত্রাণ এবং প্রতিবন্ধী সহায়তায় তার দাতব্য উদ্যোগের বর্ণনা রয়েছে।
পিতা ও পুত্রের যৌথ লেখনী বইটিকে আরও মানবিক ও অন্তরঙ্গ মাত্রা দিয়েছে। এতে নেতৃত্ব, নাগরিক দায়িত্ববোধ, বিশ্বাস এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
বর্তমানে ২৭৩ পৃষ্ঠার এ বইটি প্রিন্ট ও অনলাইন দুই সংস্করণেই পাওয়া যাচ্ছে। হার্ডকভার সংস্করণের মূল্য ২৬ দশমিক ৯৭ মার্কিন ডলার এবং পেপারব্যাক সংস্করণের মূল্য ১৬ দশমিক ১৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অ্যামাজনের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, সুইডেন, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড ও জাপান থেকেও বইটি সংগ্রহ করা যাবে। ব্রাজিল, ভারত ও মেক্সিকোতে কিন্ডল সংস্করণও পাওয়া যাচ্ছে।
আহমেদ উস সামাদ চৌধুরীর জন্ম ১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ থানার নূরপুর গ্রামে। ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। বাথের সিটি অব বাথ কলেজ থেকে ও লেভেল সম্পন্ন করার পর সাউথ ব্রিস্টল কলেজে ব্যবসা প্রশাসনে পড়াশোনা করেন এবং পরে এ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি উভয় কলেজের স্টুডেন্ট ইউনিয়নে সহসভাপতি ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৯১ সাল থেকে কমনওয়েলথ জাজেস অ্যান্ড ম্যাজিস্ট্রেটস অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য। একই বছরে ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে জাস্টিস অব পিস হিসেবে নিয়োগ পেয়ে বাথ বেঞ্চের মেজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তিনি ব্রিটেন বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। পাশাপাশি ব্রিস্টলে বাংলাদেশ হাউস, বাংলাদেশ সেন্টার, শাহজালাল জামে মসজিদ এবং খাদিজা সেন্টার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৭ সালে লন্ডনে প্রথম ব্রডশিট মাল্টিকালার পত্রিকা প্রকাশের কৃতিত্বও তার।
সম্প্রতি ডিকশনারি অব ইন্টারন্যাশনাল বায়োগ্রাফির ৩৭তম সংস্করণে বিশ্বের ৬ হাজার শীর্ষ কৃতি মানুষের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন সম্মাননাও অর্জন করেছেন। ব্রিস্টল, বাথ, লন্ডন এবং সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে কমিউনিটি ও চ্যারিটি কার্যক্রমে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। একসময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নিউ ডিল প্রোগ্রামের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
প্রবাসী নেতৃত্ব, কমিউনিটি গঠন, সেবাধর্মী জীবন এবং অনুপ্রেরণামূলক সংগ্রামের ইতিহাস জানতে আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।