ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি এতটাই গুরুতর যে সেগুলো এখন কৌশলগত সম্পদের চেয়ে ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
সাম্প্রতিক একাধিক বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে, ইরানের হামলায় অন্তত এক ডজন মার্কিন ঘাঁটি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব ঘাঁটির কিছু অংশ প্রায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।
জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির গবেষক ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক মার্ক লিঞ্চ এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত এসব ঘাঁটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তিনি জানান, এই ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো প্রকাশ্যে আসেনি এবং এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যও সীমিত।
উপসাগরীয় অঞ্চলের বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও ওমানে অবস্থিত এসব ঘাঁটির প্রবেশাধিকার বর্তমানে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও ধারণ এবং প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সামরিক সক্ষমতা রক্ষার স্বার্থেই এই ধরনের তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।