বাংলাদেশি নারী হত্যাকাণ্ডে ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রবাসী বাংলাদেশি নারী নিলুফার ইয়াসমিন হত্যার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান, যা বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল তিনি নিজের সামাজিক প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ বিষয়ে মত দেন।
এর আগে ২ এপ্রিল ফ্লোরিডায় নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে নিলুফার ইয়াসমিনকে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে ট্রাম্প ওই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করে এটিকে অত্যন্ত ভয়াবহ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করেন।
তার বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, আগের প্রশাসনের নীতির কারণে যথাযথ যাচাই ছাড়া অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিরা দেশে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের অপরাধী ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে তিনি হাইতিয়ান নাগরিকদের জন্য চালু থাকা অস্থায়ী সুরক্ষা কর্মসূচিরও সমালোচনা করেন এবং তা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। বর্তমানে বিপুলসংখ্যক হাইতিয়ান নাগরিক এ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং একই বছর তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারি হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি অস্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় থাকার অনুমতি পান, যার মেয়াদ ২০২৪ সালে শেষ হয়।
এ ঘটনার পর স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্মরণে ঘটনাস্থলের কাছে একটি অস্থায়ী স্মৃতিচিহ্ন স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে কমিউনিটির সদস্যরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।