যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধবিরতি, ইসলামাবাদে স্থায়ী চুক্তির পথে অগ্রগতি
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পথে এগিয়েছে কূটনৈতিক উদ্যোগ।
মঙ্গলবার রাত ৮টা মার্কিন সময় এবং বুধবার সকাল ৬টা বাংলাদেশ সময় নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার অল্প আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেন।
এই ঘোষণার পরপরই ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল তা স্বাগত জানিয়ে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দেয় এবং এই সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকের মাধ্যমে স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অনুমোদনও এতে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এই সাময়িক স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের অনুরোধ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে এই যুদ্ধবিরতির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে, তাহলেই এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলও এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে সম্ভাব্য বৈঠকটি দুই পক্ষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই আলোচনা সফল হলে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে একটি স্থায়ী চুক্তির পথ উন্মুক্ত হতে পারে।