ইরান যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালো বিশ্ব, শান্তির আহ্বান জোরালো
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
মঙ্গলবার ৮ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পূর্বনির্ধারিত বড় ধরনের সামরিক হামলা অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেন, যা ইরানের সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিল স্বাগত জানায়।
এই ঘোষণার পর জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুদ্ধবিরতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এই যুদ্ধবিরতিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান প্রত্যাশা করছে।
নিউজিল্যান্ডও এই পদক্ষেপকে উৎসাহজনক হিসেবে উল্লেখ করলেও সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
জাপান এই পরিস্থিতিতে কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
ইরাক সরকার যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টেকসই সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের মিত্রদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং এটি দ্রুত কার্যকর হবে। তবে পরবর্তীতে ইসরাইল স্পষ্ট করে জানায়, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি সম্ভাব্য সূচনা হলেও টেকসই শান্তির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।