অর্থনৈতিক চাপে আবারও সংকটে শ্রীলঙ্কা
চার বছর আগের গভীর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা, যেখানে বৈশ্বিক ও প্রাকৃতিক দুই ধরনের চাপ একসঙ্গে অর্থনীতিকে নাজুক করে তুলছে।
রবিবার ৪ এপ্রিল, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ায় দেশটিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের খরচও বাড়ানো হয়েছে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
২০২২ সালের অর্থনৈতিক ধসের স্মৃতি এখনো দেশটির মানুষের মনে তাজা। সে সময় বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে দেশটি মারাত্মক সংকটে পড়ে এবং মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডিসানায়েকের নেতৃত্বাধীন সরকারও একই ধরনের চাপের মুখে রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। যদিও এখনো বড় আকারের বিক্ষোভ দেখা যায়নি, তবে জনমনে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।
এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পুনর্গঠন কার্যক্রমে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে জরুরি সহায়তা পাওয়া গেছে এবং চলমান ঋণ কর্মসূচি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মিলিত প্রভাবে শ্রীলঙ্কা আবারও বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।