আইএলও অধিবেশনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি ৪৭ দেশের সমর্থন
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গভর্নিং বডি অধিবেশনে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সমর্থনের চিত্র উঠে এসেছে।
সোমবার অনুষ্ঠিত আলোচনায় ৪৭টি দেশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
অধিবেশনে অংশ নেওয়া দেশগুলো জানায়, একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে।
শ্রম খাত সংস্কারসংক্রান্ত চলমান আলোচনায় বাংলাদেশ নবম অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এর প্রেক্ষিতে গভর্নিং বডির সদস্য রাষ্ট্রগুলো সরকারের আইনগত ও প্রশাসনিক সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানায়।
এই মামলার সূত্রপাত ২০১৯ সালে শ্রম অধিকার সংক্রান্ত কয়েকটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ থেকে। পরবর্তীতে ২০২১ সালে প্রণীত পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপের অগ্রগতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা হয়ে আসছে।
বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা জানান, শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী মানবাধিকার, আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা ও দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অধিবেশনে আরও জানানো হয়, শ্রম আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো বাস্তবায়নে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
আলোচনায় আরব ও উপসাগরীয় গ্রুপসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উদ্যোগকে সমর্থন জানালেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা শ্রম আইন বাস্তবায়ন ও পরিদর্শন ব্যবস্থার আরও উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
সার্বিকভাবে অধিবেশনে বাংলাদেশের শ্রম খাত সংস্কার ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ইতিবাচক মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে।