মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে, হামলা পাল্টা হামলা ও কূটনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে সামরিক অভিযান, পাল্টা হামলা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা একসঙ্গে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সোমবার মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, সংঘাত একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যের অর্ধেকের বেশি অর্জিত হয়েছে, তবে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বিস্ফোরণে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন, যার একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। এর আগের দিনও একজন শান্তিরক্ষীর মৃত্যু ঘটে, যা পরিস্থিতির উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে চালানো একটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। হামলার ধ্বংসাবশেষে একজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। একই সময়ে বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি সামরিক ঘাঁটিতেও রকেট হামলার ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের পরিকল্পনায় অগ্রসর হয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে জি৭ দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
ইরান থেকে তুরস্কের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটো প্রতিহত করেছে, যা চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই সঙ্গে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের অভ্যন্তরে কিছু পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র গোপন আলোচনায় আশাবাদী।
এদিকে, তেহরানে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার দাবি করেছে ইসরাইল, যা ইরানের সামরিক গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে তারা উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি না হলে ইরানের তেলক্ষেত্র, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসের হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
লেবাননের বৈরুতের কাছে ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সামরিক সংঘাতের বিস্তার, কৌশলগত জলপথে উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সমান্তরাল অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।