তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নেতানিয়াহুর এক জ্যেষ্ঠ সহযোগী আটক
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক জ্যেষ্ঠ সহযোগীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। রোববার ১১ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, চলমান একটি তদন্তে বাধা দেওয়ার সন্দেহে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আটক ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তিনি জাখি ব্রাভারম্যান। ব্রাভারম্যান বর্তমানে নেতানিয়াহুর চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং যুক্তরাজ্যে ইসরায়েলের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও আলোচিত হচ্ছেন।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সতর্কতামূলক জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে আপাতত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এই ঘটনা সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সূত্রপাত হয় নেতানিয়াহুর সাবেক সহকারী এলি ফেল্ডস্টেইনের বক্তব্য থেকে। তিনি দাবি করেন, গাজায় চলমান যুদ্ধের সময় বিদেশি গণমাধ্যমে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য ফাঁসের একটি ঘটনায় তদন্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফেল্ডস্টেইন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি গোপন নথি জার্মান ট্যাবলয়েড পত্রিকা বিল্ড-এ সরবরাহ করেন। ওই ঘটনার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফাঁস হওয়া নথিতে দাবি করা হয়, হামাস যুদ্ধবিরতি আলোচনায় আগ্রহী নয় এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় আটক হওয়া জিম্মিদের মুক্তি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং সামরিক চাপের মাধ্যমেই সম্ভব। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই নথি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর যুদ্ধসংক্রান্ত অবস্থানকে সমর্থন করার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেল্ডস্টেইন বলেন, তথ্য ফাঁসের পর ব্রাভারম্যান তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান এবং চলমান তদন্ত বন্ধ করার বিষয়ে মন্তব্য করেন বলে তিনি দাবি করেন। একই সাক্ষাৎকারে ফেল্ডস্টেইন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং যুদ্ধের পক্ষে জনসমর্থন তৈরির জন্য নথিটি ব্যবহারের বিষয়ে সম্মতি ছিল।
এদিকে ব্রাভারম্যানকে আটক করার ঘটনায় তার যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রদূত পদে সম্ভাব্য নিয়োগ স্থগিতের দাবি তুলেছেন ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জড়িত কোনো ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব পাওয়ার উপযুক্ত নন।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ।
সূত্র: আরব নিউজ