ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা, চাপে ভারতের কূটনীতি
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত নিরসনে এবার নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা গড়ে তুলতে দেশটি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিচ্ছে, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
প্রায় এক মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা তেহরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এবং শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সক্রিয়তা ভারতের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, যেখানে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে, সেখানে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন এবং সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার স্থান হিসেবে ইসলামাবাদের প্রস্তাব দেন। একই সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন।
ধারণা করা হচ্ছে, উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে শিগগিরই আলোচনা শুরু হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে পাকিস্তানের এই ভূমিকা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশটির বিরোধী নেতারা বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে এটিকে অকার্যকর বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে ভৌগোলিক সংযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের কারণে পাকিস্তান এই মধ্যস্থতার সুযোগ পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি পাকিস্তান সফলভাবে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারে, তবে তা শুধু সংঘাত নিরসনেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের কূটনৈতিক অবস্থানকেও আরও দৃঢ় করবে।