শান্তি চুক্তিতে সম্মতি দিলে ইরানে সেনা বিদ্রোহের আশঙ্কা, বাড়ছে অস্থিরতা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি উদ্যোগে সম্মতি দিলে দেশটিতে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
বুধবার ২৬ মার্চ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উঠে আসে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির ক্ষমতার কাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষমতা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর তরুণ কমান্ডাররা এখন বাস্তবিক অর্থে মাঠপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এর ফলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
এ অবস্থায় যদি উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতির পথে এগোয়, তাহলে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতিতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সহিংস প্রতিক্রিয়া বা লক্ষ্যভিত্তিক হামলার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
একজন বিশ্লেষকের মতে, ইরানে ক্ষমতার কাঠামো এখন অনেকটাই বিকেন্দ্রীকৃত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা সামরিক ইউনিটগুলো নিজ নিজ সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাঠপর্যায়ের তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের প্রভাব দ্রুত বাড়ছে, যাদের ওপর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামরিক বাস্তবতার ফারাক স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এদিকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তি, বিকেন্দ্রীকৃত ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সমন্বয় ইরানকে একটি জটিল অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে, যেখানে যেকোনো সিদ্ধান্তই বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।