বাজারে আসছে বিপুল ইরানি তেল, জ্বালানিতে স্বস্তির আশা
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই নতুন করে স্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে ইরানের বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে।
শনিবার ২১ মার্চ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল হওয়ার পর সমুদ্রে ভাসমান বিপুল ইরানি অপরিশোধিত তেল ধীরে ধীরে বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনের জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল মজুদ রয়েছে। তবে অন্য একটি মূল্যায়নে এই পরিমাণ ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেলের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান ঘাটতির তুলনায় অল্প সময়ের জন্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্ষম।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শোধনাগার উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এবং জ্বালানি রপ্তানিও সীমিত হয়ে পড়ছে। ফলে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি সরাসরি বৈশ্বিক বাজারকে প্রভাবিত করছে।
বিশ্ববাজারে দীর্ঘদিন ধরে ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে চীনের অবস্থান রয়েছে। গত বছর দেশটির স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করেছে। পাশাপাশি ভারতসহ অন্যান্য এশীয় দেশও নতুন করে ইরানি তেল আমদানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে নীতিগত দিকনির্দেশনা ও অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানি তেলের এই নতুন সরবরাহ বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে, তবে অর্থ পরিশোধের জটিলতা এবং সমুদ্রে থাকা তেলের বড় অংশ পুরোনো জাহাজে বহন হওয়ায় বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় চ্যালেঞ্জ থেকে যাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে এই অতিরিক্ত তেল সরবরাহ সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখতে আরও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে।