মুক্তবাণিজ্যের পথে বাংলাদেশ তুরস্ক সম্পর্ক নতুন দিগন্তে
রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। দুই দেশের পারস্পরিক আগ্রহে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে এবং তা এখন মুক্তবাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ২০ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তুরস্কের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকার কূটনৈতিক মাধ্যমে অফার লেটার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ছাড়াও ওষুধ, পাটজাত পণ্য, চামড়া, প্লাস্টিক ও সিরামিকের চাহিদা রয়েছে। তবে উচ্চ শুল্কের কারণে প্রত্যাশিত হারে রপ্তানি বাড়ছে না। ২০১০ সালে তৈরি পোশাক খাতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পর থেকে দুই দেশের বাণিজ্য এক বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন বাজার ও বাণিজ্যিক অংশীদার খোঁজা জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, অতীতে কিছু রাজনৈতিক ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা দূরত্বপূর্ণ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ও সফর বিনিময়ের মাধ্যমে সেই দূরত্ব কমছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে দুই দেশই এখন সক্রিয়।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তুরস্কের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার আরও বিস্তৃত হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।