ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠল সৌদি কাতার কুয়েত ও বাহরাইন
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে, ইরান একযোগে একাধিক উপসাগরীয় দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ গ্যাসক্ষেত্রে হামলার প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের বিভিন্ন এলাকায় এই হামলা চালানো হয়, যার ফলে বেশ কয়েকটি স্থানে সতর্ক সংকেত বাজানো হয় এবং কিছু জায়গায় আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের দিকে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ শহরের বিভিন্ন স্থানে পড়লেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে সৌদির পূর্বাঞ্চলের একটি গ্যাস স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাস লাফান এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পরে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে জানানো হয়েছে।
কুয়েতে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সংঘাত শুরুর পর থেকে এ ধরনের মোট ঘটনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২১ এবং একই সময়ে বহুবার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়েছে।
বাহরাইনেও হামলার পর সাইরেন বাজানো হয় এবং নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনার আশপাশের এলাকা খালি করার সতর্কতা জারি করেছিল, যা সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরাইলি হামলার পর এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দেয়। কাতার এই ধরনের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর আঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।