ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে চাপ ও অনিশ্চয়তা
ইরানকে লক্ষ্য করে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ২২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি কৌশলগত চ্যালেঞ্জও বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার মৃত্যু ঘটলেও দেশটির প্রতিরোধ থামেনি। বরং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে তেহরান। ফলে সামরিক অগ্রগতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো স্পষ্ট কোনো সাফল্য দাবি করতে পারছে না।
ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের হামলায় ১৯২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। সংঘাত শুরুর পর থেকে আহতের সংখ্যা তিন হাজার ৭২৭ জনে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরান প্রতিশোধমূলক হামলায় প্রায় তিন হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে, যার বড় অংশ আবুধাবিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে। সর্বশেষ ভোররাতে দুবাইসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করতে পারবে না। তিনি বলেন, ইরানের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয় এবং নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও কাঠামো অটুট থাকবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পরও রাষ্ট্র পরিচালনায় দ্রুত বিকল্প নেতৃত্ব দায়িত্ব নিয়েছে। একইভাবে অন্যান্য শীর্ষ নেতার মৃত্যু ইরানের সামগ্রিক সক্ষমতাকে দুর্বল করবে না বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানির নিহত হওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির নেতৃত্বে ছিলেন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাতের দায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, এই যুদ্ধ ইরান শুরু করেনি এবং এর মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের দায় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।