হরমুজ প্রণালী খুলতে মিত্রদের সহায়তা না পেলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ খারাপ হতে পারে, ট্রাম্পের সতর্কবার্তা
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করতে মিত্রদেশগুলোর সহায়তা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা সহযোগিতা না করলে ন্যাটোর ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
রোববার দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রণালীটি পুনরায় চালু করতে ইউরোপীয় মিত্রদের সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসা উচিত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করেছে, তেমনি হরমুজ প্রণালী সংকট মোকাবিলায় ইউরোপকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া না আসে বা নেতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়, তাহলে তা ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুবই খারাপ বার্তা হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক ও আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে ন্যাটোর অনেক মিত্র দেশ সুবিধা ভোগ করছে। তাই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তাদেরও সমান দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার উদ্যোগের বিষয়ে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রায় সাতটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রণালী নিরাপদ রাখতে সমুদ্রের মাইন অপসারণে সক্ষম জাহাজ প্রয়োজন। পাশাপাশি ইরানের উপকূলবর্তী এলাকায় সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম বাহিনীরও প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হতে পারে তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।
রোববার লেনদেন শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম প্রায় দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি একশ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট তেলের দামও প্রায় দুই দশমিক নয় শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি একশ ছয় ডলারের বেশি হয়।