ব্যাংক স্থাপনার ভাড়ায় সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
দেশজুড়ে ব্যাংকের শাখা ও অন্যান্য ব্যবসা কেন্দ্রের জন্য ভবন ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার মধ্যে ভাড়া থাকলে ব্যাংকগুলোকে আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে না। তবে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার দেশের সব ব্যাংকে পাঠিয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের মাধ্যমে নতুন ব্যবসা কেন্দ্রের জন্য ভবন ভাড়া বা ইজারা নেওয়া যাবে। একইভাবে নতুন চুক্তি করা কিংবা বিদ্যমান চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রেও পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন যথেষ্ট হবে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। যেমন কোনো ভবনের মালিক যদি ব্যাংকের পরিচালক বা পরিচালকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হন, তাহলে সেই ভবন ভাড়া নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যবসা কেন্দ্র স্থানান্তর করা, প্রধান কার্যালয় বা নিয়ন্ত্রণাধীন বিভাগের জন্য ভবন ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
অগ্রিম ভাড়া প্রদান, স্থাপনা ব্যয় কিংবা ভাড়া বৃদ্ধির হারসহ অন্যান্য বিষয় আগের নির্দেশনা অনুযায়ীই পরিচালিত হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় অঞ্চলভেদে প্রতি বর্গফুটের সর্বোচ্চ ভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ১০৪ টাকা। ঢাকার ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় সর্বোচ্চ ২৮ টাকা এবং পল্লী এলাকায় ২৪ টাকা।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে সিটি এলাকায় ৬১ টাকা, ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় ২৭ টাকা এবং পল্লী এলাকায় ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজশাহী অঞ্চলে যথাক্রমে ৩৪, ২৫ ও ১৩ টাকা এবং সিলেট অঞ্চলে ৪০, ২২ ও ১৬ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
খুলনা অঞ্চলে সিটি এলাকায় ৩৪ টাকা, ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় ২১ টাকা এবং পল্লী এলাকায় ১৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রংপুর অঞ্চলে যথাক্রমে ৪৫, ১৭ ও ১৩ টাকা এবং বরিশাল অঞ্চলে ৪৮, ২০ ও ১৪ টাকা সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রতি বর্গফুট সর্বোচ্চ ভাড়া ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই অঞ্চলের ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় ১৯ টাকা এবং পল্লী এলাকায় ১৪ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ভবনের অবস্থান, কোন তলায় স্থাপনা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবনের মান বিবেচনায় এই নির্ধারিত সীমার মধ্যেই যৌক্তিকভাবে ভাড়ার হার নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নীতিমালার মাধ্যমে ব্যাংক খাতে ভবন ভাড়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বাড়বে। একই সঙ্গে অযৌক্তিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত হবে।