ঋণ নবায়নে নিয়ম শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যবসায়ীদের স্বস্তি
চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিতে ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মঙ্গলবার ৩ মার্চ কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক সার্কুলার জারি করে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো চলমান ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত দুই মাস আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় যাচাই ও কাগজপত্র সম্পন্ন করার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো কারণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নবায়ন সম্পন্ন করা সম্ভব না হলে ঋণটি খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত নবায়ন করা যাবে। তবে বিলম্বের কারণ যথাযথভাবে নথিভুক্ত করতে হবে এবং তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
এছাড়া অনুমোদিত ঋণসীমার অতিরিক্ত অংশ নবায়নের আগে সমন্বয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত অংশকে নতুন ঋণ হিসেবে দেখানো বা অন্য কোনো হিসাবে স্থানান্তর করে সঠিক শ্রেণিবিন্যাস এড়ানোর সুযোগ থাকবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই নীতিমালা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। একই বিষয়ে ২০২৫ সালের জুনে জারি করা পূর্বের সার্কুলার বাতিল করা হয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী জারি করা এ নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নীতিমালা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে, পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করবে।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে এমন সমন্বিত পদক্ষেপ ব্যবসা ও আর্থিক খাতে আস্থার পরিবেশ জোরদার করতে পারে। সময়োপযোগী নীতিগত সহায়তা টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই আশা করা হচ্ছে।