ঢাবির ইফতারে গরুর মাংস বাদ, সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষার্থী ও প্রতিনিধিদের ক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে আগামী ৪ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ইফতার কর্মসূচির মেনুতে গরুর মাংসের পরিবর্তে মুরগির আইটেম রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে গরুর মাংস অন্তর্ভুক্ত থাকলেও এবার তা বাদ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ২ মার্চ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয় এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দাবি করছে, তাদের মতামত বিবেচনা না করেই মেনু চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এক পোস্টে উল্লেখ করেন, পূর্বের ধারাবাহিকতায় গরুর মাংস রাখা হয়নি এবং এতে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। অপরদিকে ডাকসুর কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নারী হলগুলোতে সাধারণত গরুর মাংস পরিবেশন করা হয় না এবং ইফতারের দিনটিই একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল। এ সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন হলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়কের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তাদের দাবি, ওই আলোচনার পরও অনলাইন সভায় পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে এবং মেনুতে গরুর মাংসের পরিবর্তে মুরগির আইটেমই চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এদিকে কিছু শিক্ষার্থী হল প্রশাসনের কাছে আপত্তি জানিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানান। পরে একটি অংশ ইফতার কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণাও দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আয়োজন শিক্ষার্থীকল্যাণ ও সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় পরিচালিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ইফতার আয়োজন শুধু একটি খাবারের বিষয় নয়, এটি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও অংশগ্রহণের প্রতীক। মতপার্থক্য থাকলেও সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েই ক্যাম্পাসের সৌহার্দ্য অটুট থাকে, এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট সবার।