কারাকাসে অভিযানের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন দাবি, পরিস্থিতি ঘিরে আঞ্চলিক উদ্বেগ
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বাসভবনকে কেন্দ্র করে পরিচালিত এক অভিযানের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ জনে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন দাবি উঠে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, ওই ঘটনায় ভেনেজুয়েলার ২৩ জন সেনাসদস্য, ৩২ জন কিউবান যোদ্ধা এবং দুইজন বেসামরিক নারী নিহত হয়েছেন বলে বলা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শনিবার ৩ জানুয়ারি পরিচালিত ওই অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযানের সময় কিউবান নাগরিকদের প্রাণহানির বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন বলে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া তাঁর এক সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করা হয়। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় মাদুরোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত কিউবান যোদ্ধারা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযানের পর মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, মাদকসন্ত্রাস এবং অবৈধ অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে মাদুরো ছাড়াও তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ দাখিলের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শুনানির সময় নিকোলাস মাদুরো তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নিজেকে অপহরণের শিকার হিসেবে দাবি করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। বর্তমানে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে নিউইয়র্কের একটি উচ্চ নিরাপত্তা কারাগারে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে কারাকাসে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর মুক্তির দাবিতে সমর্থকদের বিক্ষোভ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির দাবি কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি