আরিফুল হক চৌধুরী: রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের দীর্ঘ পথচলা
সুয়েব রানা: হরিপুর,জৈন্তাপুর
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ আরিফুল হক চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সিলেট ৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার এবং জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি তাকে সিলেটের জনজীবনে একটি সুপরিচিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর পিতা মরহুম সফিকুল হক চৌধুরী এবং মাতা আমিনা খাতুন। পারিবারিক জীবনে তিনি স্ত্রী সামা হক চৌধুরীর সহধর্মী। তাঁদের পরিবারে দুই কন্যা সাইকা তাবাসুম চৌধুরী ও আফসা হক চৌধুরী এবং এক পুত্র আসিফুল হক চৌধুরী রয়েছে। সিলেট নগরের কুমারপাড়া এলাকায় তাঁর স্থায়ী ঠিকানা।
পেশাগতভাবে তিনি সিলেটের শ্যামল নগর এলাকার আফসা হক ডেইরি ফার্মের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সুরমা সিএনপি পাম্পের ম্যানেজিং পার্টনার হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও তাঁর সম্পৃক্ততা লক্ষণীয়।
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে। ১৯৭৯ সালে সিলেট ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যপদ অর্জন করেন। পরবর্তীতে সিলেট মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেন। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি, সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র শাখা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে।
এছাড়া তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবে ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দুই দফায় ২০১৩ থেকে ২০১৮ এবং ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। কৃষকদলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা বিস্তৃত। তিনি সিলেট রেড ক্রিসেন্ট মাতৃ মঙ্গল হাসপাতালের চেয়ারম্যান, সিলেট শাহী ঈদগাহ ও কুমারপাড়া জামে মসজিদের মোতওয়াল্লী এবং নয়াসড়ক জামে মসজিদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতালের উন্নয়ন উপকমিটির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও যুক্ত আছেন। পাশাপাশি বিআরটিসির পরিচালক, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সদস্য এবং জালালাবাদ গ্যাসের সাবেক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তাঁর অংশগ্রহণ রয়েছে। মদন মোহন কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য, কাজী জালাল উদ্দিন স্কুলের সভাপতি এবং রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করেছেন। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি ছিলেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, স্থানীয় সরকারে নেতৃত্ব এবং সামাজিক সংগঠনে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের জনজীবনে একটি প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। রাজনীতি ও জনসেবার এই দীর্ঘ পথচলা তাঁকে জনগণের আশা ও প্রত্যাশার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে, যেখানে দায়িত্ব ও আস্থার নতুন অধ্যায় প্রতিনিয়ত রচিত হচ্ছে।