তাসনিম জারার পরাজয়ে নারী সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রেস সচিব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার পরাজয়কে কেন্দ্র করে নারী ও নারীবাদী সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
১৩ ফেব্রুয়ারি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচনী মাঠে নারী প্রার্থীদের পক্ষে দৃশ্যমান সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ঘাটতি ছিল, যা তাসনিম জারার পরাজয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে।
পোস্টে শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠন জোরালো বক্তব্য দিলেও বাস্তবে পুরুষপ্রাধান্য রাজনৈতিক পরিবেশে তাসনিম জারা কার্যত সীমিত সমর্থন নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তার দাবি, নারী সংগঠনগুলোর ঘরে ঘরে প্রচার, প্রকাশ্য সংহতি বা সংগঠিত সমর্থন তেমনভাবে চোখে পড়েনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ও শ্রমিকনেত্রী তাসলিমা আখতারকেও প্রায় একাই মাঠে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। নারী শ্রমিক অধিকারকর্মী, নারী সাংবাদিক কিংবা নারী পেশাজীবীদের বড় অংশের সরাসরি সম্পৃক্ততা দৃশ্যমান ছিল না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পোস্টের শেষাংশে প্রেস সচিব অভিমত দেন, নারী সংসদ সদস্য প্রার্থীদের প্রতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর আরও কার্যকর ও মাঠমুখী ভূমিকা প্রত্যাশিত ছিল।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ৯ আসনে তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৃতীয় অবস্থানে থাকেন। নির্বাচনী ফলাফলকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
গণতন্ত্রের শক্তি কেবল ভোটের বাক্সে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণেই তার গভীরতা নির্ধারিত হয়—এই উপলব্ধিই হয়তো সামনে এনে দিয়েছে নতুন করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তা।