বরিশালের দুই আসনে মুফতি ফয়জুলের পরাজয়, কারণ খুঁজছেন নেতাকর্মীরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ সদর ও মহানগর এবং বরিশাল-৬ বাকেরগঞ্জ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই পরাজিত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।
১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, বরিশাল-৫ আসনে তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের কাছে প্রায় ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। একইভাবে বরিশাল-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খানের কাছে তিনি ৫৩ হাজার ৫১ ভোটে পরাজিত হন।
দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার এই পরাজয় ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে বরিশাল-৫ আসনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছিল। ওই আসনে জোট রাজনীতি, সমর্থন বিনিময় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১১ দলীয় জোটে থাকার সময় বরিশাল সদর আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। চরমোনাই পীরের নিজ এলাকা হওয়ায় এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থিতা প্রত্যাশিত ছিল। তবে মনোনয়ন দাখিলের সময় জামায়াতের নেতা অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলালও প্রার্থী হন, যা দুই দলের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়ায়। পরবর্তীতে ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয় এবং পারস্পরিক বক্তব্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
যদিও শেষ পর্যন্ত জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে সমর্থন জানান, স্থানীয় পর্যায়ে সে সমর্থন পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের একাংশের মতে, জামায়াতের সব সমর্থক হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেননি। এতে ভোটের ব্যবধানে প্রভাব পড়েছে।
অন্যদিকে বরিশাল-৬ আসনে ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক ভিত্তি তুলনামূলক দুর্বল ছিল। তারপরও সেখানে মুফতি ফয়জুল ২৯ হাজার ১৪৬ ভোট পান, যা দলীয় ভোটব্যাংকের প্রতিফলন বলে দাবি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভোটার জানিয়েছেন, জোট রাজনীতির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং প্রচারণার কৌশলগত সীমাবদ্ধতা পরাজয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি মো. রেদোয়ান অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী পরিবেশে অর্থ ও প্রভাবের ব্যবহার ছিল এবং জামায়াতের প্রত্যাশিত ভোট হাতপাখায় আসেনি।
অন্যদিকে বরিশাল মহানগর জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম খসরু বলেন, সমন্বয়ের অভাব এবং যৌথ প্রচারণা না হওয়াই মূল সমস্যা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হলে ফল ভিন্ন হতে পারত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে ইসলামী ধারার ভোটের বিভাজন, জোটভিত্তিক সমন্বয়ের দুর্বলতা এবং স্থানীয় পর্যায়ের কৌশলগত ব্যবধানই ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। তবে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার পরই স্পষ্ট ধারণা মিলবে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জয়-পরাজয় স্বাভাবিক হলেও এই ফলাফল বরিশালের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ রাজনীতির ময়দানে শেষ কথা বলে জনগণের রায়ই।