ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়বে বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে কথা বলেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, নতুন সরকার কেবল প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়, বিশ্বের সব দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে সেই সম্পর্ক হবে ন্যায্যতা, সমান অধিকার, সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে।
ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বার্থ ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেবে। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সমমর্যাদার ভিত্তিতেই কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালিত হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।
নতুন সরকারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণের ভোটে দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি দমন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষিত ৩১ দফা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়া হবে। জুলাই জাতীয় সনদকেও রাজনৈতিক সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, স্বাধীনতার পর এই সংসদ সবচেয়ে বেশি কার্যকর আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবে। একই সঙ্গে নতুন সরকার তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের বিষয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথ এবং সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
শেষে তিনি গণমাধ্যমসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, একটি সাম্যভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও সুশাসনের বিকল্প নেই। নতুন অধ্যায়ের এই সূচনায় দেশবাসীর আস্থা যেন অটুট থাকে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।