ইতিহাস গড়ে সিলেট বিভাগের একমাত্র নারী এমপি তাহসিনা রুশদীর লুনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে বিজয়ী হয়ে সিলেট বিভাগের একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোছা. তাহসিনা রুশদীর লুনা।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ শেষে প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি ভূমিধস ব্যবধানে জয় লাভ করেন।
সিলেট-২ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলীকে ৭৯ হাজার ২৫১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৮৩ জন।
বিশ্বনাথ অংশে মোট ভোটার ছিলেন ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৭৫ জন। এখানে কাস্টিং হয় ৮৯ হাজার ৩৪১টি ভোট। বৈধ ভোট ছিল ৮৭ হাজার ১৭১টি এবং বাতিল ২ হাজার ১৭০টি। ভোটের হার ছিল ৪৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। বিশ্বনাথে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তাহসিনা রুশদীর লুনা পান ৬৭ হাজার ৯৭৭ ভোট। দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পান ১৭ হাজার ৯৫৪ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী পান ৫৪২ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আমির উদ্দিন পান ৫৭২ ভোট এবং গণফোরামের মুজিবুল হক পান ১২৬ ভোট।
ওসমানীনগর অংশে মোট ভোটার ছিলেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৩০৮ জন। এখানে কাস্টিং হয় ৭২ হাজার ৪৯৬টি ভোট। বৈধ ভোট ৭০ হাজার ৩৯৭টি এবং বাতিল ২ হাজার ৯৯টি। ভোটের হার ছিল ৪২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ অংশে লুনা পান ৪৮ হাজার ৭২০ ভোট এবং মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পান ১৯ হাজার ৪৯২ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে মাহবুবুর রহমান চৌধুরী পান ৮৬২ ভোট, মাওলানা আমির উদ্দিন পান ৮১৭ ভোট এবং মুজিবুল হক পান ৫০৬ ভোট।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্বনাথ অংশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে সিলেট-২ আসন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলী এই আসনে উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা নেন তার সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঠে সক্রিয় ছিলেন।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি তিনটি দিক থেকে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তিনি সিলেট বিভাগের একমাত্র নারী এমপি, সিলেট-২ আসনের প্রথম নারী সংসদ সদস্য এবং স্বামীর পর একই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জনগণের প্রত্যাশা, নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এলাকায় উন্নয়ন ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় ভোটারদের রায়ই শেষ পর্যন্ত ইতিহাস নির্মাণ করে।