আগে মায়ের মর্যাদা, তারপর ফ্যামিলি কার্ড, চট্টগ্রামের জনসভায় জামায়াত আমিরের বার্তা
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগে মায়ের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে, তারপর ফ্যামিলি কার্ডের কথা আসবে। তিনি বলেন, মানুষ কোনো কার্ডের ধার ধারে না, কিন্তু মায়ের গায়ে হাত তুললে আগুন জ্বলে উঠবে। ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর কলেজ মাঠে মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি একদিকে ফ্যাসিবাদকে এবং অন্যদিকে মায়ের ওপর হাত তোলা ও নারীদের হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে জনগণকে লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামবাসীর একটি ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অনেকে বলেছেন নামের দিক থেকে চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী হলেও কাজে ফকফকা। তার ভাষায়, কিছু মানুষ যুগ যুগ ধরে বন্দরের সুযোগ নিয়ে নিজেদের স্বার্থে কপাল বানিয়েছে, তবে আগামীতে সেই সুযোগ আর দেওয়া হবে না।
জনসভায় হ্যাঁ ভোটের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, এখন তারা হ্যাঁ ভোটের কথা বলতে শুরু করেছেন, তবে তাদের মুখের কথা যেন মনের কথা হয়। তিনি আরও বলেন, যারা নারীদের গায়ে হাত দেয়, হুমকি দেয় কিংবা অপমান করে, তাদের বিরুদ্ধে সমাজকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম ৮ আসনে ১১ দলীয় জোটের শরীক দল এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের হাতে শাপলা কলি প্রতীক, চট্টগ্রাম ৯ আসনে জামায়াত প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম ১০ আসনে অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম ১১ আসনে মো. শফিউল আলম এবং খাগড়াছড়ি আসনে এয়াকুব আলী চৌধুরীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াত আমির। তিনি এসব প্রার্থীদের পক্ষে ভোটও চান।
নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা নিজেদের জন্মভূমির পাহারাদার মনে করেন। তিনি বলেন, দেশের জন্য জীবন দেব, কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি মাটিও কাউকে দেওয়া হবে না এবং কোনো আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না।
চট্টগ্রামকে শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, প্রতিরোধের রাজধানী হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। বক্তব্যে তিনি কর্নেল অলি আহমদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রাম থেকেই প্রথম উই রিভোল্ট উচ্চারিত হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানকে হাত ধরে এনে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কর্নেল অলি আহমদের ভূমিকা ছিল।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি তাদের শীর্ষ নেতাদের কাছে চাঁদাবাজি বন্ধ করার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও দখলদারি শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কারণে তাদের দলেরই ৩৬ জন মারা গেছে। তিনি বলেন, অনুরোধের পরও তারা সঠিক পথে ফেরেননি এবং মা বোনদের প্রতি অশালীন আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইডি হ্যাক হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, তার আইডি হ্যাক করে এমন জঘন্য বিষয় ছড়ানো হয়েছে, যা মুখে বলা যায় না। তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যে কারা এই কাজ করেছে তা শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের পেছনে কারা রয়েছে সেটাও বের করা হবে।
এসময় তিনি দুইদিন আগে শেরপুরে দলের একজন নেতাকে হত্যার কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জুলাইকে যারা স্বীকৃতি দেয়নি তাদের মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, জাতি ইতোমধ্যে লাল কার্ড দেখিয়েছে।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম, কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ, ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতুসহ অন্য নেতারা।
সবশেষে বলা যায়, রাজনীতির ভাষা যতই কঠিন হোক, সমাজের প্রকৃত শক্তি তখনই জাগে, যখন মানুষ মায়ের সম্মান আর নারীর মর্যাদাকে নিজের অস্তিত্বের মতো করে আগলে রাখে।