সদলবলে বিএনপি প্রার্থীর আওয়ামী লীগ নেতার কবর জিয়ারত ঘিরে মাদারীপুরে আলোচনা তুঙ্গে
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বিএনপির ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তারের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের কবর জিয়ারতকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নাদিরা আক্তার স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শিবচরের সাবেক আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক সংসদের চিফ হুইপ মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর কবর জিয়ারত করেন। মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই এবং আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।
এই কবর জিয়ারতের খবর জানাজানি হওয়ার পর শিবচরের বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের ওপর যে দমন-পীড়ন, নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে, সেই সময়কার ক্ষমতার সুবিধাভোগী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রতি এমন সম্মান প্রদর্শন বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ আমলে হামলা-মামলা, কারাবরণ এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হওয়া বহু মানুষ এই ঘটনায় মানসিকভাবে আহত হয়েছেন। তাদের মতে, এতে শুধু দলীয় কর্মীদের নয়, সাধারণ জনগণের মাঝেও ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, যা নির্বাচনী মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যেসব নেতাকর্মী রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তাদের জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ সহজে গ্রহণযোগ্য নয়। এ অবস্থায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, স্বৈরাচারী সরকারের সময় ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের কবর জিয়ারত করা বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ও অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে নাদিরা আক্তারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারাও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেননি বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এমন বিতর্ক দলের ভেতরের ঐক্যকে দুর্বল করতে পারে এবং জনসমর্থনের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত দলীয়ভাবে ব্যাখ্যা ও অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন অনেকে।
সবশেষে বলা যায়, রাজনীতিতে প্রতিটি পদক্ষেপই বার্তা দেয় মানুষের কাছে, আর সেই বার্তা যদি কর্মীদের আশা ও ত্যাগের সঙ্গে না মেলে, তবে ক্ষত তৈরি হয় নীরবে, যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়ে ওঠে।