ঐতিহ্যের বিখ্যাত নাম হবিগঞ্জের গায়েবি মসজিদ
হবিগঞ্জ জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে উচাইলের গায়েবি মসজিদ। সদর উপজেলার উচাইল সংকর পাশা গ্রামে অবস্থিত এই প্রাচীন শাহি মসজিদটি স্থানীয়ভাবে গায়েবি মসজিদ নামেই বেশি পরিচিত।
ইতিহাস অনুযায়ী, শাহজালাল রাহিমাহুল্লাহ তরফ অঞ্চল বিজয়ের লক্ষ্যে সুলতান নাসির উদ্দিন সিপাহসালারের সঙ্গে যে কয়েকজন মর্দে মুজাহিদ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের অন্যতম ছিলেন সেনাপতি হযরত শাহ মজলিস আমিন রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। তরফ বিজয় অভিযানের অংশ হিসেবেই তাঁর উচাইলে আগমন ঘটে। বর্তমানে তাঁর মাজার উচাইল সংকর পাশা গ্রামেই অবস্থিত এবং সেই মাজার সংলগ্ন প্রাচীন শাহি মসজিদটিই গায়েবি মসজিদ নামে পরিচিত।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, নাসির উদ্দিন সিপাহসালার নৌপথে তরফ অভিমুখে যাত্রাকালে দূর থেকে একটি উঁচু আইল দেখতে পেয়ে সেখানে যাত্রাবিরতি করেন। এই উঁচু আইল থেকেই পরবর্তীতে উচাইল নামের উৎপত্তি ঘটে বলে ধারণা করা হয়। ধারণা করা হয়, হযরত শাহ মজলিস আমিন রাহমাতুল্লাহি আলাইহি প্রথমে এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। পরে মুঘল আমলে আলাউদ্দিন হোসাইন শাহের শাসনামলে দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ সংযোজন করে মসজিদটির নতুন ইমারত নির্মিত হয়।
ঘন অরণ্যের মধ্যে দীর্ঘদিন লুকিয়ে থাকা এই মসজিদ এক সময় মানুষের চোখে ভেসে ওঠে। এ কারণেই স্থানীয়দের মধ্যে এটি গায়েবি মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত সিলেট বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা।
দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গায়েবি মসজিদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার উদ্দেশ্যে গত বছর শাহ মজলিস আমিন রাহমাতুল্লাহি আলাইহির মাজার পরিদর্শন করা হয়। খুব সকালে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে সিএনজিযোগে উচাইল এলাকায় পৌঁছে মসজিদ প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা হয়।
মাজার চত্বরের চারপাশ এখনও নিচু অবস্থায় রয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হয় যে সুলতানি আমল থেকেই উচাইল এলাকার উচ্চতার ঐতিহাসিক সাক্ষ্য বহন করে আসছে। জানা গেছে, স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা মাঝে মধ্যে এখানে জুমার নামাজ আদায় করেন। প্রতি শুক্রবার শতাধিক মুসল্লির সমাগম ঘটে এই মসজিদে।
জায়গার স্বল্পতার কারণে সুন্দর্যবর্ধিত এই মসজিদের সম্মুখভাগে পরবর্তীতে আগচালা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। উচাইলের গায়েবি মসজিদ আজ হবিগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য ও বিখ্যাত নাম হিসেবে পরিচিত।