কড়াইলবাসীর নামে ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রির পরিকল্পনার কথা বললেন তারেক রহমান, মানুষের কষ্ট কমানোই বিএনপির অঙ্গীকার
রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আল্লাহর রহমত থাকলে এই এলাকায় বসবাসরত মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট ধীরে ধীরে লাঘব করা হবে। তিনি জানান, কড়াইল বস্তিতে উঁচু ও আধুনিক ভবন নির্মাণ করে নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রত্যেক বাসিন্দার নামে ফ্ল্যাট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে কড়াইল বস্তির সন্নিকটে মহাখালী টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনের আগে ঢাকা ১৭ আসনের কড়াইলবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।
দোয়া মাহফিলে তারেক রহমান বলেন, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের দৈনন্দিন কষ্ট কীভাবে কমানো যায়, সেটাই বিএনপির রাজনীতির লক্ষ্য ও অঙ্গীকার। তিনি আরও বলেন, তিনি নিজেকে দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন এবং জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চান।
নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, সুযোগ পেলে এবং জনগণের সমর্থন থাকলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা আর্থিক ও সামাজিকভাবে উপকৃত হন। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
কড়াইলের শিশুদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই এলাকার শিশুদের শিক্ষা, খেলাধুলা, বিদেশি ভাষা শিক্ষা এবং চিকিৎসাসেবার সুযোগ শহরের অন্যান্য শিশুদের মতো করে নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, কড়াইলবাসীর জন্য নিবন্ধনের মাধ্যমে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে এবং বস্তির শিশুদের জন্য স্কুল ও খেলার মাঠ নির্মাণের কথাও জানান।
একই দিন রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যানবাড়ী মাঠে আয়োজিত আরেক দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়া, সুইডেন, ডেনমার্ক ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূতরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।