দুদকের শতাধিক মামলায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে স্থবিরতা, জনশক্তি রপ্তানি অনিশ্চয়তায়
বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে, যার পেছনে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা শতাধিক মামলাকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প হিসেবে মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। তবে চলমান আইনি জটিলতার কারণে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
বৈঠকে মালয়েশিয়া পক্ষ তাদের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন কোনো ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষমূলক কার্যক্রম বন্ধের ওপর জোর দেয়। অপরদিকে বাংলাদেশ পক্ষ আইনের শাসন, জবাবদিহি ও যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার অঙ্গীকার তুলে ধরে। একই সঙ্গে চলমান মামলা ও তদন্ত নিষ্পত্তির শর্তে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ইঙ্গিত দেয় মালয়েশিয়া।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে দেশটিতে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন বাংলাদেশি কর্মী গিয়েছিলেন, যারা মূলত নির্মাণ, বনায়ন ও উৎপাদন খাতে কাজ করতেন।
সরকার পরিবর্তনের পর একটি মামলার সূত্র ধরে ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মানব পাচার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে তদন্ত সংস্থা সিআইডি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে বাদীর আপত্তির কারণে মামলাটি পুনরায় তদন্তাধীন রয়েছে।
এর মধ্যেই একই ধরনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন পৃথকভাবে মামলা দায়ের করে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। যদিও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের অনুসন্ধানে মানব পাচার বা অর্থ পাচারের প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছে।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় আগেই এসব মামলা অসত্য উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালেও বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমবাজার চালু না হওয়ায় সম্ভাবনাময় এ খাতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উভয় দেশ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে। মালয়েশিয়া নতুনভাবে ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা জানিয়েছে, যেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চলমান আইনি জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও উন্মুক্ত হতে পারে এবং দেশের প্রবাসী কর্মসংস্থানে নতুন গতি ফিরে আসবে।