ফ্রান্সে দাবানলের বিস্তার অব্যাহত, নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ
ফ্রান্সের আটলান্টিক উপকূলসংলগ্ন জিরোন্দ অঞ্চলে দাবানলের বিস্তার অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নতুন করে প্রায় চার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ২৮ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ পরিস্থিতিতে জানানো হয়েছে, নতুন তাপপ্রবাহের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বোর্দোর পশ্চিমে অবস্থিত জিরোন্দ অঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আয়তনের দিক থেকে এটি প্যারিস শহরের প্রায় চার গুণের সমান। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ফ্রান্স ও স্পেন মিলিয়ে চলমান দাবানলের প্রভাবে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে বসতবাড়ি ও পর্যটন এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছে। একই সময়ে স্পেনের বিভিন্ন স্থানে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় দেশটিও নতুন তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ জানিয়েছেন, শান্তিকালীন সময়ে এত বড় পরিসরে বেসামরিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা দেশটিতে আগে ঘটেনি। তাঁর মতে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বাদ দিলে এটি ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপদ স্থানান্তর কার্যক্রমগুলোর একটি হতে পারে।
রাতের তুলনামূলক অনুকূল আবহাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দমকলকর্মীরা জিরোন্দ অঞ্চলের আগুন আংশিক নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। উপকূলীয় বালিয়াড়ির কাছাকাছি ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট আগুনও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বাতাসে আর্দ্রতা কমে গেলে আগুন আবার দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি এলাকার কিছু পর্যটক শুরুতে স্থান ত্যাগে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে লাকানৌ রিসোর্ট এলাকার ক্যাম্পসাইট, হলিডে ভিলেজ এবং বিনোদনকেন্দ্রগুলোও নিরাপদ স্থানান্তরের আওতায় আনা হয়। জাতীয় ফায়ার সার্ভিস ফেডারেশনের মুখপাত্র এরিক ব্রোকার্দি জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে দেখা গেছে, জিরোন্দের দাবানল এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এটি স্থানীয়ভাবে স্বতন্ত্র আবহাওয়াসদৃশ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আগুন থেকে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়ার মেঘের প্রভাবে বজ্রপাত, প্রবল বাতাস এবং মূল অগ্নিকাণ্ডের সীমার বাইরেও নতুন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সে এ ধরনের পরিস্থিতি এর আগে নথিভুক্ত হয়নি।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটিতে দাবানলে এক হাজার ১৬০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপ প্রায় দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে। এর ফলে পশ্চিম ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ এবং বড় পরিসরের দাবানলের ঝুঁকি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র এপি