এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটিতে গ্যাস সংকট, স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে আরও দুই সপ্তাহ
মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সৃষ্ট কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এ সময়ে আবাসিক, শিল্প, সিএনজি ও বিদ্যুৎ খাতে ভোগান্তি অব্যাহত থাকার পাশাপাশি লোডশেডিং বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে।
গত মঙ্গলবার মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর সেটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বর্তমানে প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট দৈনিক চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এতে সরবরাহ ঘাটতি চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শর্টসার্কিটে ক্ষতিগ্রস্ত বৈদ্যুতিক কেবল ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ মেরামতে যুক্তরাজ্য থেকে আনা প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। আগামী পাঁচ থেকে আট দিনের মধ্যে টার্মিনালটি আংশিক চালু করা সম্ভব হলে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক অপারেশন রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কেবল মেরামতের কাজ চলছে। তবে কখন কাজ শেষ হবে তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে হতে পারে এবং দ্রুত টার্মিনাল চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, বাড্ডা, রামপুরা ও বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা ও ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করছে।
একই সঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক স্টেশন আংশিক বা পুরো সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। যেসব স্টেশন চালু রয়েছে সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। শিল্প খাতেও গ্যাসের স্বল্পতায় উৎপাদন কমেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং বিকল্প সরবরাহ উৎস বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।