চাঁদ অভিযানে নভোচারীদের খাবার তালিকা, কী থাকছে মেন্যুতে
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চাঁদের পথে যাত্রা শুরু করা আর্টেমিস-২ মিশনে নভোচারীদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করেছে নাসা। মহাকাশের পরিবেশে শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে এই খাবার তালিকায় রাখা হয়েছে বৈচিত্র্য ও পুষ্টির সমন্বয়।
এই মিশনে অংশ নেওয়া নভোচারীদের জন্য প্রতিদিন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল শুরু হওয়া এই অভিযানে তাদের খাদ্যতালিকায় মোট ১৮৯ ধরনের খাবার রাখা হয়েছে।
মেন্যুতে রয়েছে আমের সালাদ, ঝাল সবুজ শিম, ব্লুবেরি গ্রানোলা এবং টরটিয়ার মতো নানা ধরনের খাবার। পাশাপাশি পানীয় হিসেবে রাখা হয়েছে দশটির বেশি বিকল্প, যার মধ্যে কফি, ম্যাঙ্গো পিচ স্মুদি ও স্ট্রবেরি জুস উল্লেখযোগ্য। তবে প্রতিটি নভোচারী দিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ অনুযায়ী দুটি পানীয় গ্রহণ করতে পারবেন।
নাসা জানিয়েছে, খাদ্যতালিকা তৈরির সময় নভোচারীদের ব্যক্তিগত পছন্দের পাশাপাশি পুষ্টিমান ও মহাকাশযানের সীমাবদ্ধতা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়েছে। ওরিয়ন মহাকাশযানের ভেতরে খাবার সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সুবিধার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব খাবার নির্বাচন করা হয়েছে।
মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে সহজে খাওয়া যায় এবং কম বর্জ্য তৈরি হয় এমন খাবারই বেছে নেওয়া হয়েছে। যেহেতু মহাকাশযানে ফ্রিজ নেই, তাই তাজা খাবার সংরক্ষণ সম্ভব নয়। ফলে শুকনো খাবার পানির মাধ্যমে পুনরায় প্রস্তুত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ জন্য মহাকাশযানে রয়েছে বিশেষ পানির ডিসপেনসার। পাশাপাশি খাবার গরম করার জন্য ব্যবহৃত হবে ফুড ওয়ার্মার।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে শক্তিশালী রকেটের মাধ্যমে চারজন নভোচারী এই মিশনে যাত্রা শুরু করেন। প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে তারা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন, তবে সরাসরি অবতরণ করবেন না।
এই মিশন মূলত পরীক্ষামূলক হওয়ায় মহাকাশযানের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে মানুষের চাঁদে পুনরায় অবতরণের পথ আরও সুগম করবে।