পাঁচ দশক পর চাঁদ অভিযানে নতুন দিগন্ত, কেন আবার মানুষ পাঠাল নাসা
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মানুষকে চাঁদের পথে পাঠিয়ে মহাকাশ গবেষণায় নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার নাসার আর্টেমিস-২ মিশনে চারজন নভোচারী চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। এতে তিনজন মার্কিন ও একজন কানাডীয় নভোচারী অংশ নিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৩৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে শক্তিশালী রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
মঙ্গলবার ৩ এপ্রিল মূল অভিযানের অংশ হিসেবে নভোচারীরা যাত্রা শুরু করে, যা আগামী দিনের চাঁদ অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে। এই মিশনে তারা সরাসরি চাঁদে অবতরণ করবেন না, বরং প্রায় ১০ দিনের অভিযানে চাঁদের চারপাশে ঘুরে ভবিষ্যৎ অবতরণের প্রস্তুতি নেবেন।
অভিযানের সময় তারা চাঁদের এমন একটি অংশের কাছাকাছি পৌঁছাবেন, যা পৃথিবী থেকে সরাসরি দেখা যায় না। প্রায় ৬৪০০ মাইল দূরত্বে অবস্থান করে তারা তিন ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ছবি সংগ্রহ করবেন।
এই মিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নভোচারীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিশ্লেষণ। মহাকাশ ভ্রমণ মানুষের শরীর ও মনের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের অভিযাত্রাকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নাসার লক্ষ্য অনুযায়ী, এই মিশন সফল হলে আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে পরবর্তী ধাপে মানুষকে আবার চাঁদের মাটিতে নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু চাঁদেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভবিষ্যতে আরও দূরবর্তী মহাকাশ অভিযানের পথও প্রশস্ত করবে।