সিসিক নির্বাচন ঘিরে বিএনপিতে বাড়ছে মেয়র পদপ্রার্থীর সংখ্যা
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ঘোষণা এখনো না এলেও নগরের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার, প্রচারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন আগ্রহী নেতারা।
সোমবার ৯ মার্চ সিলেট নগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় উঠে আসে, প্রথমদিকে পাঁচ থেকে ছয়জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও এখন সেই তালিকা বেড়ে অন্তত ১২ জনে পৌঁছেছে। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও হিসাব নিকাশ শুরু হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় হঠাৎ করেই আলোচনায় এসেছে সিসিকের দুবারের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী সামা হক চৌধুরীর নাম। এছাড়া বর্তমান প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে আরও রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান চৌধুরী কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান, সিসিকের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকি এবং জেলা তাঁতী দলের সভাপতি ফয়েজ আহমদ দৌলত।
সর্বশেষ সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ২১ জুন। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের জুন মাসে।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে দেশের সব সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করা হয় এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা পেতে নগরবাসীকে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেক বাসিন্দা।
এ অবস্থায় দ্রুত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী প্রথম ধাপে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে সিলেটসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান মাছউদ জানিয়েছেন, ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়ার পরই ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করা হবে।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডেই ইতোমধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা ও ভোটের হিসাব নিকাশ শুরু হয়েছে। ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট সীমানা সম্প্রসারণের পর সিসিকের আয়তন ২৬ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে ৭৯ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সিসিকের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৮ জন। এর মধ্যে সিলেট ১ সংসদীয় আসনের আওতায় থাকা ৩৬টি ওয়ার্ডে ভোটার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭২ জন এবং সিলেট ৩ সংসদীয় আসনের আওতায় থাকা ৬টি ওয়ার্ডে ভোটার ৩৯ হাজার ৬১৬ জন।
অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও মেয়র পদে প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতি শুরু করতে পারে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন ঘিরে নগর রাজনীতিতে নতুন করে যে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে, তা সিলেটের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সুস্থ প্রতিযোগিতা ও জনমুখী নেতৃত্বের মধ্য দিয়েই নগরবাসী প্রত্যাশা করছে একটি কার্যকর ও সেবামুখী নগর প্রশাসন।
সূত্র: প্রথম সিলেট